
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে।
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার সড়ক ও গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে দেশের প্রধান কয়েকটি পোশাকশিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে থাকা ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে সোমবার ১ হাজার ৪৫৫টি চালু ছিল। বাকি ৬৭৯টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া ও জিরানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কাজ বন্ধ থাকায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক কর্মস্থল থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে যান। এতে ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক কাজে অংশ নেননি। অন্যদিকে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি বন্ধ ছিল।

সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকে। এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টিতে শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
তবে চট্টগ্রামের ৩৪০টি পোশাক কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ বা কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি বলে বিজিএমইএর তথ্যে জানানো হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।