প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:২৭

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (২ নভেম্বর)। প্রাথমিকভাবে যানবাহন নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংসদে আইন পাসের পর বিধিমালা প্রণয়ন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ৩০ বছর ধরে এসব যানবাহনের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছিল না। নতুন আইনের মাধ্যমে ই-রিকশাকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে কিছুটা সময় লাগবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নিবন্ধন নবায়নে দিতে হবে ৪ হাজার টাকা। আর চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।
ই-রিকশার ফিটনেস সনদে কিউআর কোড থাকবে। এ সনদ সংগ্রহের জন্য মালিকদের এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব যানবাহন সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচলের সুযোগ পাবে।

ই-রিকশার উৎপাদন ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বুয়েট, সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। উৎপাদনের ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত নকশা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে।
বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অতিরিক্ত গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচলকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ই-রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।