প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এতে যোগ দেন।
শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে এসব এলাকার সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
একপর্যায়ে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তবে বোর্ড গঠনের পরও ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। ওই দিন মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার এলাকায় হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। পরে হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিকেলে কালশী আদর্শনগর এলাকার একটি পোশাক কারখানাতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা।