প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৮

বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও আত্মবিশ্বাসী ও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন নিজস্ব স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বৈদেশিক মিশনগুলোর সার্বিক মূল্যায়ন নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রমে এ আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সংগঠিত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সফল মিশনগুলোকে পুরস্কৃত করার কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বর্তমানে আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রমে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি ছিল। প্রবাসীদের সেবা, অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

দূতাবাসগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান খলিলুর রহমান। এর আওতায় প্রতিটি মিশনের কার্যক্রম পরিমাপের জন্য কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর বা কেপিআই প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কেপিআইয়ের মাধ্যমে দূতাবাসগুলোর কাজের মান, সাফল্য ও দক্ষতার ভিত্তিতে গ্রেডিং করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন দূতাবাসের কার্যক্রমের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতার হালনাগাদ তথ্য সংসদে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক কূটনীতিতে দেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের তুলনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলেও সংসদে স্বীকার করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সম্পদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার।