প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২

রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আধুনিক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। একবারে পুরো অর্থায়ন সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থ বিনিয়োগের আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বর্তমান বাসিন্দাদের জন্য উন্নত ও নিরাপদ আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বস্তি এলাকার পরিবর্তে সেখানে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত ভবনগুলো হবে প্রায় ২০ তলা। প্রতিটি আবাসিক ইউনিটের আয়তন ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুটের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে এসব ফ্ল্যাটে পুনর্বাসন করা হবে। আবাসনের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো মাসিক ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের ব্যয় বাসিন্দাদের বহন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) হয়ে চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং চীন প্রস্তাবটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রকল্পের অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থায়ন করা হবে। এতে বড় পরিসরের প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বস্তিগুলোতে বসবাসরত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাসকারী কোনো পরিবার যেন পুনর্বাসন কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।