প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৮

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ইতিবাচক ফল হিসেবে দীর্ঘদিন পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে সব খাতেই কর্মী নিয়োগের পথ সুগম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের বিপুল সংখ্যক কর্মপ্রত্যাশীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি এ অগ্রগতির জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কারিগরি পর্যায়ে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবে।
প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন সঠিক সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দালাল ও প্রতারক চক্রের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি নির্বাচন, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করবে। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়েও বাংলাদেশ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
মাহদী আমিন জানান, শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ চলছে। দুই দেশের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বৈঠক ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।