প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে গঠিত এ জোটে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ অংশ নিয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোটের লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং কৌশলগত সমুদ্রপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতায় বিকল্প ও নিরাপদ সমুদ্রপথ রক্ষায় সৌদি আরব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এ জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। যদিও লোহিত সাগরে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পৃথক নৌ নিরাপত্তা কার্যক্রম রয়েছে, নতুন জোটের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আরও দেশ এতে যোগ দিতে পারবে বলেও জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বিত মহড়া এবং প্রয়োজনে সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা থাকবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা যুক্ত করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই সংকীর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।