প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমুদ্র ও স্থলপথে সমন্বিত সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে লোহিত সাগর অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মূল লক্ষ্য হচ্ছে লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানির পথ নিরাপদ রাখা এবং সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা ও অবরোধের কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি মোকাবিলা করা। এ লক্ষ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই দিকেই তৎপরতা বাড়িয়েছে রিয়াদ।
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু সেনা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান, জিবুতিসহ ১৪টি দেশ এই সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করলেই তারা সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ শিথিল করতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, এই বিরোধের মূল কারণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি, অন্য কোনো আঞ্চলিক ইস্যু নয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। এর জবাবে সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের পথও যদি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের নতুন এই অধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।