প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২

গাজায় সম্ভাব্য শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য ১৪ দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরির কথা বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি এবং আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ ব্যবস্থার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেছেন, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইসরায়েল যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও চুক্তির শর্ত কার্যকর করবে না।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, গাজায় একটি ন্যাশনাল কমিটি গঠন করা হবে, যারা অস্ত্র তালিকাভুক্ত ও সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে। পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ কমিটি পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা বহিরাগত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে না; বরং সব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে গাজার ন্যাশনাল কমিটির হাতে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে ভারী অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজায় সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে গাজায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার করবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
অন্যদিকে কায়রোতে মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ চুক্তির খসড়া নিয়ে কিছু ভাষাগত ও কাঠামোগত আপত্তির কথা জানিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিতে ‘নিরস্ত্রীকরণ’-এর পরিবর্তে অস্ত্র ‘তালিকাভুক্ত ও মজুদ’ করার যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ধারণা, এই ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যাতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর জন্য প্রস্তাবটি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার পথ আরও সুগম করা যায়।