প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১৬:২৭

দেশে মোটরসাইকেল মালিকদের অগ্রিম আয়কর বা এআইটির আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব যুক্ত করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মূলত কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি সামনে আসতেই সাধারণ বাইক মালিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকের প্রশ্ন, যাদের করযোগ্য আয় নেই কিংবা টিন নম্বর নেই, তাদের কাছ থেকে কীভাবে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হবে। কারণ দেশের বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
এনবিআর সূত্র বলছে, বর্তমানে টিন নম্বরের মাধ্যমেই এআইটি আদায়ের চিন্তা করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে আরও বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক যানবাহন থেকে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ দেখছে সরকার।

তবে শুধু টিন নম্বর নয়, বিদ্যমান ট্যাক্স টোকেন ব্যবস্থার সঙ্গেও এআইটি যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। অর্থাৎ যেভাবে প্রতিবছর ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা হয়, সেখানেই অতিরিক্ত কর আদায়ের একটি ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান মনে করেন, মোটরসাইকেল মালিকদের কর কাঠামোর আওতায় আনা যৌক্তিক উদ্যোগ। তবে করের হার অবশ্যই সহনীয় ও বাস্তবসম্মত হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়েন।

অন্যদিকে এই পরিকল্পনার বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বাইক মালিকদের একটি সংগঠন এনবিআর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে নতুন কর আরোপ না করার দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন কর চালু হলে সাধারণ চালকদের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।