
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৯

নিরাপত্তা শঙ্কাকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসরে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ দল, যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলংকার প্রস্তাব দিয়ে আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ভারতেই বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকল্প ভেন্যু প্রস্তাব নিয়ে বিসিবির যুক্তি শোনা হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও আয়োজক দেশের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় আইসিসি।
গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় পূর্ণ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেই বৈঠকে বিশ্বকাপের ভেন্যু ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশকে একদিন সময় দেওয়া হয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ যদি ভারতে গিয়ে খেলতে সম্মতি না দেয়, তাহলে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি করে।
এই প্রেক্ষাপটে বিকেলে ক্রিকেটারদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠকে অংশ নেন জাতীয় দলের একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে জানা যায়, বাংলাদেশ দল তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ক্রিকেটারদের একটি বড় অংশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস, আইসিসি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটবে এবং শ্রীলংকাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করবে। এতে করে বাংলাদেশ দল নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের হাতেই রয়েছে। বাংলাদেশের এই অবস্থান বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের কাঠামোতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহল।