প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪২

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ২০ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে, যা বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বুধবার বিকাল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা কাঠামোতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা আসতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার ধসে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বেশ কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। আর্থিক খাত সংস্কার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আয়-বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে গত জুলাই মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ পে-কমিশন গঠন করা হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও আলোচনা শেষে কমিশন বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ চূড়ান্ত করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:৮।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরো নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয় সামাল দিতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা ও রাজস্ব আয়ের নতুন উৎস খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের ওপর। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিশনের চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়বে।
এরই মধ্যে সরকার চলতি জানুয়ারি মাস থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রাথমিক বাস্তবায়নের ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে।
সরকার আশা করছে, নতুন পে-স্কেল চালু হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।