
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪২

সরকার সারাদেশের মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের জন্য একটি নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত এই নীতিমালায় মসজিদের পদভিত্তিক গ্রেড অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন নীতিমালায় সিনিয়র পেশ ইমামকে ৫ম গ্রেড, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ গ্রেড, সাধারণ ইমামকে ৯ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম ও সাধারণ মুয়াজ্জিন ১১ তম গ্রেডে, প্রধান খাদিম ১৫ তম এবং সাধারণ খাদিম ১৬ তম গ্রেডে রাখা হয়েছে। অন্যান্য কর্মীদের জন্য ২০ তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় আচরণবিধি ও নৈতিক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মসজিদের জনবলকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে এবং মুসল্লি ও এলাকাবাসীর নৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি ও মডেল মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন সরকার বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদে স্থানীয় কমিটি গেজেট অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করবে। খতিবদের বেতন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

নীতিমালায় মাসিক ছুটি, বার্ষিক নৈমিত্তিক ছুটি ও অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদের নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এর সুপারিশ ব্যতীত নিয়োগ অনুমোদিত হবে না। চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপীল করা যাবে। জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি এই সমস্যার সমাধান করবে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা রহিত করা হয়েছে। এ নীতিমালায় দেশের মসজিদে খতিব ব্যতীত সকল জনবলের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, আচরণবিধি, ছুটি, নিরাপত্তা ও দায়িত্বসহ অন্যান্য শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশের মসজিদে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর হবে এবং মসজিদগুলো আরও কার্যকর ও সংগঠিতভাবে পরিচালিত হবে।