প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২১, ৩:৩৬
শর্ত ভেঙে টিকার দাম প্রকাশ করায় চীন নারাজ হয়েছে। মূলত এ কারণেই টিকা পেতে দেরি হচ্ছে। সিনোফার্মের টিকার বিষয়ে চীন এখনও বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি। আজ বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চীনের (টিকার) দামটি যখন জনসমুখে চলে আসল, সবাই জানল। সে কারণেই চীন আমাদের প্রতি ক্ষুব্দ ও নারাজ হয়েছে। যেহেতু আমরা নন-ডিসক্লোজার (প্রকাশ হবে না এমন) চুক্তিতে সই করেছিলাম।
তার ফলশ্রুতিতে কী হয়েছে- এখন আমাদের টিকা পেতে দেরি হচ্ছে এবং তাদেরকে অনেক মানাইতে হচ্ছে।’
তবে জাহিদ মালেক আরও জানান, চীনের টিকা পেতে সব ধরনের কাগজপত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় টিকার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, টিকা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। রাশিয়া থেকে আগামী দু-একদিনের মধ্যে ভালো সংবাদ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
করোনার ডেল্টা (ভারতীয়) ধরনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার এ ধরন সীমান্ত এলাকা থেকে ঢাকার কাছাকাছি পর্যন্ত চলে এসেছে। আমাদের সবাইকে এখন সাবধান ও সতর্ক হতে হবে। না হলে সামনে বড় বিপদ হতে পারে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন ১১ লাখ টিকা আছে। এগুলো আগামী ১৯ জুন থেকে পাঁচ লাখ লোককে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখেই পাঁচ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
এগুলো সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী, বিদেশগামী যাত্রী, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দেওয়া হবে।’
শর্তসাপেক্ষে ভারত ও চীনের আরও দুটি করোনার টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। তবে আন্তর্জাতিক প্রটোকল মানা নিয়ে সন্দেহ থাকায় এখনও দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের ‘বঙ্গভ্যাক্স’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘যে প্রটোকলগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, প্রটোকলগুলো কমপ্লিট না করে এলে আপনি কখনোই টিকা দিতে পারবেন না। কারণ, আমরা আমাদের মানুষকে তো ঝুঁকিতে ফেলতে পারব না।’
এ সময় মন্ত্রী আরও জানান, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউনসহ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করোনার টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মানবশরীরে পরীক্ষার অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল এ বছরের শুরুতে। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে এজন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়া হয়েছিল ১৭ জানুয়ারি।