আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পুরো আদালতকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনটির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত মাসের একটি অবকাশকাল শেষে আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। এর ফলে আদালত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ, পণ্য বা সেবা গ্রহণে বিশেষ অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আইসিসিবিরোধী অবস্থান দীর্ঘদিনের। গাজা সংঘাত নিয়ে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে পুরোনো যুদ্ধাপরাধ তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে আইসিসির প্রেসিডেন্টসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আগস্টেও আইসিসির প্রেসিডেন্ট তমোকো আকানে ও জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নতুন পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে আদালতের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, বিমা, তদন্তকারী নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন ও কর্মীদের বেতন পরিশোধের মতো কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতার কারণে আইসিসির সঙ্গে লেনদেনে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র আদালটির সদস্য নয়।