
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১২

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। এর আগে বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করে কাঠমান্ডু।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান আঘাত হানে। ভোতিকোশি ও এর শাখানদী লেহন্দে নদীর ওপর প্রাকৃতিকভাবে তৈরি একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু স্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হন। দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল ও চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর নেপালে ১ হাজার ৯২৪ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ৩৫টি দেশের নাগরিকদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে।
বন্যার পর নেপালকে উদ্ধারকাজে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয় ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ। তবে শুরুতে কাঠমান্ডু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। নেপাল সরকার জানিয়েছিল, দেশটির নিজস্ব উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে এবং বিদেশি দলের সহায়তা এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রীও একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক হলেও নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে এবং বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।
তবে ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আসে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে জানান, বিশেষ কিছু এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের প্রবেশ এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের নেপালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ ছিল। বিশেষ করে বন্যায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় তাদের নিজ নিজ সরকার উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।