প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৪

ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতার চাপ ও হুঁশিয়ারির পরও এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) সেরেম্বানে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, নিজস্ব অভিবাসন নীতি নির্ধারণ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার সাংবিধানিক ও সার্বভৌম অধিকার। এ বিষয়ে বাইরের কোনো চাপ গ্রহণ করা হবে না।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার আপত্তি কোনো ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিন ও গাজায় চলমান সহিংসতা, দখলনীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই এ অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি আটজন মার্কিন আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মালয়েশিয়াকে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। অন্যথায় আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (আইএমইটি) কর্মসূচির অর্থায়ন স্থগিত করার সুপারিশও করেন তারা।
এছাড়া ওই আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ার বর্তমান নীতি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দেশটি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সব সময় মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।
এদিকে, জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত একটি প্রযুক্তিভিত্তিক কমিউনিটিকে ঘিরে ইসরায়েলি নাগরিকদের অবস্থানের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তদন্তে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাগজপত্র যাচাই করা হলেও কয়েকজন দ্বৈত নাগরিকের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনও চলছে।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশের আইন ও অভিবাসন নীতির কোনো ব্যত্যয় হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার আগ্রহ থাকলেও জাতীয় নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলে সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।