প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৮

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০১ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উচ্চ অবস্থান।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮২ সেন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, যার প্রভাব সরাসরি তেলের দামে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এই ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম টানা বাড়তে বাড়তে পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০১ ডলারে লেনদেন শেষ করে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম স্থির হয় ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯১ ডলারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জ্বালানি তেলের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিনিয়োগকারী, আমদানিকারক দেশ এবং শিল্প খাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও নতুন ওঠানামা দেখা যেতে পারে।