পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে একাধিক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে তেহরান। শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণ ঘটে, যা মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, ঈদ উদযাপনের মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছিল, লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এ হামলার পর তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভয়েস অব আমেরিকা-এর ফার্সি ভাষা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের একবাতান এলাকায় অবস্থিত আজাদি টাওয়ার এবং অলিম্পিক ভিলেজ এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
এছাড়া তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে মাজান্দারান প্রদেশ-এর পাহাড়ি এলাকা কেলারদাশতেও প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। শুক্রবার যখন ইরানি পরিবারগুলো রমজানের শেষ দিন ও নওরোজ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সামরিক অভিযান শুরু হয়।
এ ঘটনায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে দেশজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে তার কোনো আগ্রহ নেই এবং পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।
তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-এর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।