প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় খামেনি মারা গেছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি মার্কিন সূত্র ও একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালায়। হামলার সময় খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোরের নামও রয়েছে।
ইরানি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হামলার ঠিক আগে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি এবং আলী শামখানি।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা যায়, ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে বিস্ফোরণের চিহ্ন রয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।