প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৪

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তা শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের আশপাশে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি আসে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ও সামরিক উপস্থিতি ইরানি জাতিকে ভীত করে না। তার ভাষায়, এসব হুমকি ইরানের জনগণকে বিচলিত করবে না এবং তারা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট করে বলেন, তেহরান কখনোই আগ্রাসনের সূচনা করে না এবং কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চায় না। তবে যদি ইরানের ওপর হামলা বা হয়রানি চালানো হয়, তাহলে ইরানি জাতি শক্ত ও উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। এই বক্তব্যে তিনি প্রতিরোধমূলক অবস্থানের ওপর জোর দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে পারমাণবিক চুক্তি ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এসব হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক সমাবেশ কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হলেও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না তেহরান। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এমন ন্যায্য আলোচনায় আগ্রহী, যা দেশের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আরও বেশি সংখ্যার দাবি করছে। এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনাকে প্রভাবিত করছে।