
প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৮

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় শনিবার রাতে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ডাকুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাত ১১টার দিকে সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নুরুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মো. আবু নাঈম জানান, ঘটনাটি ঘটে যখন হাসান মামুনের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের মিছিল করছিলেন। ট্রাক প্রতীকের সমর্থকেরা তাদের সংখ্যা কম দেখে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এতে ট্রাক প্রতীকের সমর্থক মো. আলতাফ প্যাদা, মো. ফিরোজ খান ও মো. মাহাতাব খানসহ সাত থেকে আট জন আহত হন।
অন্যদিকে, হাসান মামুনের সমর্থক মো. মারুফ বলেন, তারা ডাকুয়া নির্বাচনী কার্যালয় থেকে মিছিল করে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ট্রাক প্রতীকের সমর্থকরা তাদের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর শুরু করেন। তিনি জানান, সংঘর্ষে জায়েদ মাহমুদ সাআদ ও মো. ওয়াজিব হাওলাদারকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, আপাতত এলাকায় কোনো ঝামেলা নেই এবং পুলিশ পরিস্থিতি মনিটরিং করছে।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতা প্রায়শই ছোটখাটো সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়, যা ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ রোধে কড়া ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভোটার ও নির্বাচনী সমর্থকদের শান্তি রক্ষায় সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এভাবে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতি প্রশাসনের তৎপরতার মাধ্যমে আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।