প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অর্থের অবৈধ প্রভাব রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি একক লেনদেনের সীমা এক হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের সুযোগ থাকলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে, দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নির্বাচনের উত্তাল সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে টাকা স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়, তবে নির্বাচনী সময়ে এই সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকা উত্তোলন ও জমার ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো হিসাবের একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানাতে হবে। সঠিক তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ নেওয়ার মূল লক্ষ্য নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার সুযোগ বন্ধ করা। এছাড়া লেনদেন সীমিত করার মাধ্যমে অর্থের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচনী সময়ে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত ভোটারদের মধ্যে স্বাভাবিক প্রভাব প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক দলের অবৈধ অর্থ ব্যবহার রোধ করতে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার জন্য বলা হয়েছে। নির্বাচনের সময় অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।