প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৯

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের কড়া অবস্থানের পর ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একযোগে বিমান হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় রাত দুইটা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কারাকাসের আকাশজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ, যুদ্ধবিমানের গর্জন ও ধোঁয়ায় ভরে ওঠে। নগরবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়।
হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় মোতায়েনের নির্দেশ দেন এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগওয়া ও লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানীর একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, এতে দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল হয়ে যায়।
এদিকে পেন্টাগন অভিযানের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হোয়াইট হাউসের দিকে ইঙ্গিত করলেও সেখান থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার এই হামলাকে দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো দাবি করছে, বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে মাদুরো ক্ষমতায় টিকে আছেন। হামলার আগে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবহর ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছিল।
সাম্প্রতিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অনেক দেশ এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।