গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে অন্তত ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। বন্দিদের অধিকারের জন্য কাজ করা প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজন সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন গাজার বাসিন্দা। তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের মৃত্যুর তথ্য গোপন করছে এবং আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
সোমবার গাজার বন্দি বিষয়ক কমিশন জানায়, গাজার বন্দি মুসাব হানি হানিয়াহ ইসরায়েলি হেফাজতে মারা গেছেন। ৩৫ বছর বয়সী হানিয়াহকে গত মার্চে খান ইউনিস থেকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তার পরিবার জানিয়েছে, আটক হওয়ার আগে তিনি সুস্থ ছিলেন, যা ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের প্রমাণ বহন করে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর ও গাজা দখলের পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ২৯৬ ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে অন্তত ১০ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে গাজা উপত্যকা থেকে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে না।
ইসরায়েলি হামলার জেরে গাজায় যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজার ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অবকাঠামোর ৬০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এসব কার্যকলাপকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল বিভিন্ন সময়ে তা লঙ্ঘন করছে। বন্দি বিনিময় ও শান্তি চুক্তির শর্ত থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিলেও ইসরায়েল তার আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এই অব্যাহত হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ব নেতাদের অনেকে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আহ্বান জানালেও যুদ্ধবিরতির জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে গাজায় মানবিক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়বে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।