
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২২, ১:৩০

প্রবল আতঙ্কের মুখেও পিছু হটে না মানবিকতা। প্রাণ বাঁচানোর দৌড়ে শামিল হতে হতেও একজন আগলে রাখেন অন্য একজনকে। সম্প্রতি ফের সামনে এল তেমনই এক ঘটনা। একদিকে যখন তীব্র ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে কোনও মানুষ, তার বিপরীতে এমনই মানবিকতার নজির গড়লেন অন্য আরেকজন মানুষই। আসুন, শুনে নেওয়া যাক।
আততায়ীর নির্বিচারে গুলি চালানোর ফলে আহত একাধিক মানুষ। সেইসব আহত ব্যক্তির মধ্যে তিনিও একজন। কিন্তু ওই আতঙ্কের পরিস্থিতিতেও অসামান্য সাহসের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। নিজের প্রাণরক্ষার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন আরেকজন অপরিচিত মানুষকে রক্ষা করার কাজে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গুলিবৃষ্টির ঘটনায় এমনই মানবিকতার নজির প্রকাশ্যে আনলেন ওই আহত ব্যক্তি।
কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন তিনি? হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এ প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি। জানালেন, পালানোর চেষ্টা করার দরুন গুলি লাগেনি তাঁর। বরং এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ওই মহিলাকে বাঁচাতে গিয়েই গুলি এসে লাগে তাঁর শরীরে। এই ঘটনার পরে একটি বিখ্যাত টেলিভিশন শো-য়ে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভরতি থাকা অবস্থাতেই তাতে যোগ দেন ওই ব্যক্তি। আর সেখানেই এই কথা জানালেন তিনি।

মঙ্গলবার ব্যস্ত সময়ে নিত্যযাত্রীদের ভিড়ে জমজমাট ছিল মেট্রো স্টেশনের সাবওয়ে। আর সেই সময়ই আচমকা মুখোশ পরা এক বন্দুকবাজ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাটি ঘটে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি মেট্রো স্টেশনের সাবওয়েতে। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ২৭ বছরের হুরারি বেঙ্কাডা। জানা গিয়েছে, গুলি চালানোর আগে যাত্রীদের বিভ্রান্ত করার জন্য একটি ধোঁয়ার বোমা ছুড়ে মারে দুষ্কৃতী। ভয়ে আতঙ্কে হুড়মুড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন যাত্রীরা। কেউ কেউ পড়েও যান। তখন বেঙ্কাডার সামনেই ছিলেন এক মহিলা। আতঙ্কিত মহিলা বলে ওঠেন তিনি সন্তানসম্ভবা। আর এই কথা শুনেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওই অপরিচিত মহিলাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান যুবক। সোজা ওই মহিলাকে জড়িয়ে ধরে তাঁকে নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে দাঁড়ান তিনি। আর এই সময়েই একটি গুলি এসে লাগে তাঁর হাঁটুর পিছনদিকে।
শারীরিক ব্যথার চেয়েও সেদিনের বিভীষিকাই বেশি অস্থির করছে এই যুবককে। তবে তার মধ্যেও তাঁকে সামান্য স্বস্তি দিচ্ছে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে রক্ষা করতে পারার ঘটনাটি। যখন একজন মানুষ মানুষের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ থেকে নির্বিচারে গুলি ছুঁড়ছেন, তখনই আরেক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অন্য মানুষের দিকে। কেবল ওই যুবককেই নয়, এমন অনন্য মানবতার নজির বুঝি স্বস্তি দিচ্ছে বাকি পৃথিবীকেও।