
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২২, ২:৪৮

জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে নির্জন দ্বীপে আটকে পড়েছে কালু আর টিনা। টিনা জমিদার বংশের মেয়ে, লন্ডনে পড়তে যাবে শিগগিরই আর কালু জেলে। কিন্তু এই দ্বীপে এসব পরিচয়, বংশ-বিত্ত কোনো কাজেই আসবে না। বাঁচতে হলে একসঙ্গে চলতে হবে। এমনই এক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নির্মাতা আলমগীর কবিরের সীমানা পেরিয়ে।
মূলত ’৭০-এ বাংলাদেশে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত 'সীমানা পেরিয়ে' চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ এবং তার বিপরীতে ছিলেন জয়শ্রী কবির। চলচ্চিত্রটিতে জয়শ্রী তথা টিনাকে পুঁজিবাদী আর বুলবুল আহমেদ তথা কালুকে শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে দেখানো হয়।
এ ছাড়া এই চলচ্চিত্রের গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। যার মধ্যে ছিল ‘মেঘ থমথম করে' এবং 'বিমূর্ত এই রাত্রি'র মতো গান দুটি । চলচ্চিত্রটির শুরুতে টিনাকে ধনী এক ছেলে বিয়ে করতে চায়, কিন্তু টিনা রাজি হয় না। কালুর পাশাপাশি সেই ছেলেটির চরিত্রেও অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ।

এদিকে জহির রায়হানের 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রটি পরিবার থেকে রাষ্ট্রে যে প্রতিবাদের ভাষা রেখে গেছেন, তারই স্রোত ছিল আলমগীর কবিরের এই চলচ্চিত্রের ভাষায়। ছবির বড় একটি অংশের শুটিং হয় কক্সবাজার নিকটবর্তী একটি দ্বীপে। ভাটার সময় ইউনিট সেখানে যেত, জোয়ারে শুটিং করে আবার ভাটার সময় ফিরে আসত। পাহাড় কেটে রাস্তাও তৈরি করতে হতো। কিছু অংশের শুটিং হয় এফডিসি, বেঙ্গল স্টুডিও এবং কালিয়াকৈরের জমিদারবাড়িতে।

চলচ্চিত্রটি চারটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করে—শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বুলবুল আহমেদ, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা আলমগীর কবির, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক বশীর হোসেন ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক এম এ মোবিন। বাচসাস পুরস্কারে আলমগীর কবির হন শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, বিশেষ পুরস্কার পান ভূপেন হাজারিকা। এ ছাড়া ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের বিচারে সেরা ১০ বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটি 'সীমানা পেরিয়ে'।