প্রায় অর্ধকোটি টাকায় লাল গাড়ি কিনলেন সিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনোদন ডেস্ক, জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০১:২৪ অপরাহ্ন
প্রায় অর্ধকোটি টাকায় লাল গাড়ি কিনলেন সিয়াম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক সিনেমা ‘বঙ্গবন্ধু’ তে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শামসুল হকের চরিত্রে অভিনয় করছেন সিয়াম আহমেদ। গেল সপ্তাহে মুম্বাইতে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়ে গতকাল দেশে ফিরেছেন। মুম্বাইতে তার অংশের দৃশ্যায়ন শেষ, এরপর বাংলাদেশ অংশে আবারও যোগ দেবেন তিনি।


দেশে ফিরেই ঘরে এনেছেন লাল টুকটুকে এক গাড়ি। স্ত্রী শাম্মা রুশাফি অবন্তীকে সঙ্গে নিয়ে সেই গাড়ির ছবি তুলে প্রকাশ করেছেন সোশাল মিডিয়ায়। গাড়ি কেনার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন ভক্তদের সঙ্গে।

নতুন গাড়ির ছবি দিয়ে সিয়াম ক্যাপশনে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালোবাসাকে ঘরে স্বাগতম।’ বোঝাই যাচ্ছে এই লাল গাড়িটির প্রতি তার দুর্বলতার গভীরতা বেশ।


সিয়াম জানান, তার নতুন গাড়ির মডেলটি হলো ‘মাজদা এমএক্স ৫’। তিনি এটি কিনেছেন ‘মাভেন অটোস বাংলাদেশ’ নামক গাড়ির শোরুম থেকে। বাংলাদেশে মাজদা এমএক্স ৫ মডেলের বাজার মূল্য বর্তমানে ৪২ লাখ টাকা। কাগজপত্রের জন্য আরও প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ পড়েছে।


ছবিটিতে কাজ করা প্রসঙ্গে ‘পোড়ামন ২’ খ্যাত এ নায়ক বলেন, ‘নিজের ভালো লাগা এবং ভালোবাসা থেকেই কাজটি করা। এ কাজটির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনটাকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করা-টাই আমার ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বড় একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।’


নিজ দেশ পেরিয়ে মুম্বাইতে কাজে অংশ নেওয়া, সেখানকার পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই খুব কনসার্ন ছিলাম। একে তো ‘বঙ্গবন্ধু’ নিয়ে সিনেমা, সেখানে নিজের দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করা; আমি বা আমাদেরকে তো অবশ্যই ভালো পারফর্ম করতে হবে। সেটাই দেখাতে চেয়েছি যে, আমরা আসলেই খুব ডেডিকেটেড।


প্রথম দৃশ্যটি করার সময় একটু কনফিউজড ছিলাম। ছবিটির টিম আমাকে ব্রিফ করছেন, মার্চ করছেন; আমি রিহার্সাল করে শট দিচ্ছি। ভালো হলে সেটা রাখছেন। যেটা খুবই ভালো হচ্ছে সেটার জন্য তালি দিচ্ছেন আর যেটা হচ্ছে না তার জন্য বলছেন লেটস ট্রাই সামথিং এলস।


প্রত্যেকটা শটের আগে বিশ/ত্রিশ মিনিট করে সময় দেওয়া; যেখানে কেউ কাউকে ডিস্টার্ব করবে না। আপনি একা একা ভাবতে পারবেন, প্রস্তুতি নিতে পারবেন বলে সময় দিচ্ছে আমাদেরকে। প্রস্তুত হলেই বলছেন, ‘গো ফর দ্য টেক’। এটা খুব সুন্দর একটা ব্যাপার। আর শট ভালো হলেই টিমের সবার এপ্রিসিয়েশন, তালি পাচ্ছি। কাঁধে হাত রেখে বলা ‘বিউটিফুল শট, বহুত আচ্ছা কিয়া’। তাদের এই এপ্রিসিয়েশনগুলো ভালো লেগেছে ভীষণ।’


ঢালিউডের সঙ্গে সেখানকার কাজের ধরণ বা পার্থক্য কেমন মনে হয়েছে আপনার কাছে? এমন প্রশ্নে সিয়ামের উত্তর, ‘ওভাবে ঠিক বলতে পারবো না। আমার মনে হয়, পার্থক্য আসলে খুব বেশি একটা না। তারা আমাদের থেকে টেকনিক্যাল দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে। টেকনোলজিক্যালি আমাদের থেকে অনেক অ্যাডভান্সড এবং ওয়েল অর্গানাইজড। সময়টা খুব বেশি মেইনটেইন করে তারা, সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না। যেহেতু তারাও দৌড়ের উপর থাকে তাই আর্টিস্টরাও জানে তাকে কখন কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে।


সেদিক থেকে আমাদের এখানে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়। যেহেতু আমাদের সাপোর্ট কম,আমাদের কষ্টটা আরও বেশি। ভালোবাসার জায়গা থেকে, চেষ্টার জায়গা থেকে, কষ্টের জায়গা থেকে এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমরা কাজ করে করে যাচ্ছি, সামনেও করে যাবো। আমার মনে হয়, এর জন্য আমাদের এপ্রিসিয়েশন পাওয়া উচিত। সেখানে কাজ করার পর আমাদের দেশের নিজেদের প্রোডাকশন, টিমসহ সব টেকনিশিয়ানদের প্রতি আমার সম্মানটা আরও অনেক বেড়ে গিয়েছে। এটুক বুঝতে পেরেছি যে, আমরা কতটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে নিজেদের সেরাটা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।’


আজ সন্ধ্যায় অবমুক্ত হতে যাচ্ছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমার টিজার। ছবিটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম অ্যাডভেঞ্চার এন্ড অ্যাকশন সিনেমা হচ্ছে ‘শান’ এরপর ‘অপারেশন সুন্দরবন’। কিন্তু এটার টিজারই আগে আসছে। আমি টিজার দেখেছি। আমার কাছে কেমন লেগেছে এটা ম্যাটারই করে না। এটা যাদের জন্য বানানো তাদের কেমন লাগছে; সেটাই আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু দুইটা ছবিতেই আমি একটা নতুন জনরা ট্রাই করেছি, একটা নতুন চরিত্রে; সেখানে দর্শকরা কীভাবে আমাকে গ্রহণ করে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।’