প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ১:৫
কিশোর অপরাধ বাড়ছে মাদকের কারণে। পরিবারগুলোতে বাড়ছে অশান্তি। টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে মারধর ও ভরণপোষণ না দেওয়ার ঘটনায় থানায় একের পর এক মামলা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও সমাজে অপরাধ এবং মাদক গ্রহণের হার বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে তরুণদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে কে। পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা মাদকের ছোবলে হয়ে যাচ্ছে আসক্ত।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাদকের ব্যবসা হচ্ছে তিনটি ধাপে। একটি দল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা মাদক নিয়ে আসে শহরে। তারা পৌঁছে দেয় শহরের এজেন্টদের কাছে। এজেন্টরা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে খুচরা বিক্রেতাদের দিয়ে এসব মাদক বিক্রি করায়। দরিদ্র পরিবারের নারী ও শিশুদের মাদক বিক্রি,পরিবহন ও খুচরা বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে নেপথ্যের হোতারা।তারা থেকে যাচ্ছে আইনের নাগালের বাইরে।
সরাইলের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর এ জন্য সক্রিয়ভাবে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ২০২৩ সাল থেকে গত জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাইল থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে ৬টি। মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার হয়েছে ১০ মাদকসেবী ও বিক্রেতা। এ সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ কেজি গাঁজা, ১০২৫ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৮ বোতল ফেনসিডিল।
উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু খাটিহাতা হাইওয়ে থানা এলাকায় পুলিশ ৭টি মামলায় ১০ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় উদ্ধার হওয়া মাদকের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও চল্লিশ বোতল মাদক।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবার ও সেবনে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধীরা।জানা গেছে প্রথমে সিগারেট ওগাঁজা দিয়ে শুরুকরলেও ইয়াবাওফেনসিডিল গ্রহণের মাত্রা সরাইলে সবচেয়ে বেশি। ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ নামক আঠালো পদার্থ স্থানীয়ভাবে ‘ড্যান্ডি গাম’ নামে পরিচিত। জুতা মেরামতে ব্যবহারের এই গামকে মাদক হিসেবে গ্রহণ করছে অনেকেই। একটানা দুই বছর ড্যান্ডি গ্রহণ করলে মানসিকভাবে বিকার গ্রস্ত হয়ে যায় সেবীরা।
এ বিষয়ে সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সীমান্তবর্তী এলাকা এই এলাকায় সরাইলে মাদক-ঢুকে অতি সহজে।এই অবস্থাকে রুখতে হলে। সচেতনতা বাড়াতে হবে,শিক্ষার্থী দের ক্লাসে শিক্ষকরা মাদকের ( ক্যাম্পেইন করে) নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। সুধীজন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাইকে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে সমাজের প্রতি স্তরে। তিনি বলেন, এই অবস্থায় সকলের উদ্যোগ প্রয়োজন।মাদকের কারণে সরাইলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা কিশোরদের বিপথে নিচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আলাদা কোনো ইউনিট গঠন করা যেতে পারে। এ ছাড়া সামাজিক আন্দোলন গড়তে হবে। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা।
সরাইল উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি আইনজীবী মো.আশরাফ উদ্দিন মনতু বলেন, আইনজীবী হিসেবে দেখতে পাইযে গ্রাম অঞ্চলেও মাদক চড়িয়ে পড়েছে। মাদকের মুল উৎপাটন করা আমার কাজ।সরাইলে মাদকের সয়লাব। এ অবস্থা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা দরকার। তাদেরকে আইনের নজরদারি রাখতে হবে। অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে এ জন্য পুলিশকে আরো সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে হবে বলে এ আইন জীবী বলেন।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি সহ- সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, একজন মাদক একাই ব্যবসা করে না। এদের সঙ্গে সমাজের অনেক রাঘববোয়ালরাও জড়িত। রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অনেকের সখ্য থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই ব্যবসার পরিধি বাড়ছে।সরকারের ডোপ টেস্টের আওতায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান সাংবাদিক সুমন।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আকুল চন্দ্র বিশ্বাস এ প্রতিনিধিকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ব্যপারে সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় নেই। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে তারা মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।ওসি বলেন, তবে মাদকমুক্ত করতে হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন।ওসি বলেন , সরাইল থানা পুলিশ মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেবে না, থানা মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স বলেন তিনি।
সম্প্রতি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা দাবি করে বলেন।সরাইলে মাদক যেভাবে ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছে। এখন যুব সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বক্তব্যে বলেছেন, এই মাদকের সাথে রাজনৈতিক বড় বড় নেতারা জড়িত। যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে। মাদকের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনের পাশাপাশি পুলিশি অভিযান বাড়াতে হবে।