প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৩, ২৩:৩২
সরাইল উপজেলায় প্রায় সব ধরনের মাদক দ্রব্য অতি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এক কথায় মাদকের ছড়াছড়ি চারদিকে। হাত বাড়ালেই মেলে ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা,বাংলা মদ ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য। উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন চালিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবারিরা। গতকাল অনুষ্টিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা তুমুল আলোচনা করেন।
এসব মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় এর নেশার ফাঁদে পা দিয়ে ধ্বংস হচ্ছে এলাকার কিশোর, ছাত্র ও যুব সমাজ এর সাথে নারীরাও। উপজেলা আইন- শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা জানান , উপজেলার অন্তত কয়েকটি টি স্পটে বেচাকেনা চলছে এসব মাদকদ্রব্য। গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার আইন- শৃঙ্খলা সভায় জনপ্রতিনিধিরা উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো নাম প্রকাশ করেছেন।
এদিকে জানাযায়, সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে,শাহবাজপুর ইউনিয়নে কয়েকটি স্পট আছে। নোঁয়াগাও ইউনিয়নের অনেক স্পটে মাদক বিক্রি করার কথা বলেন ইউপি চেয়ারম্যানগণ। কালিকচ্ছ ইউনিয়নে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি মাদকের আস্তানার নাম উল্লেখ্য করে চেয়ারম্যান সায়েদ মিয়া বক্তব্যে দেন। চুন্টা ইউনিয়নের বাজারে হেঁটে হেটে মাদক বিক্রি করে, বাজারে পশ্চিম পাশে পুরানো বিল্ডিং অবাধে চলছে মাদক। কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বার জিবি বাজারে, শাহবাজপুর বাস স্ট্যান্ড।
এসব স্পটে অবাধে চলছে সর্ব প্রকার মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা ও সেবন। খুচরা বিক্রেতাদের হাতঘুরে এসব স্পট থেকেই চলে যাচ্ছে সেবনকারীদের হাতে। এছাড়া মোটরসাইকেল যোগে ভ্রাম্যমান মাদক বিক্রেতার একটি দল পুরো উপজেলা চষে বেড়াচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক সেবী জানিয়েছে, চম্পা নামের প্রতিটি ইয়াবা ট্যাবলেট ৩০০ থেকে ৪০০, আর-৭ ইয়াবা ৫০০ থেকে ৬০০, ফেনসিডিল প্রতি বোতল ১২০০ থেকে ১৩০০, হেরোইন প্রতি পুরিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ এবং গাঁজা প্রতি পুরিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদক দ্রব্যের বেশির ভাগ ক্রেতা স্কুল-কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা ।
এতে লাভবান হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী। কিন্তু সর্বনাশ হচ্ছে কিশোর ও যুব সমাজের । যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খ্যাত ইয়াবা সহজ লভ্য হওয়ায় স্কুল কলেজের ছেলেরা এর প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে নারীরাও কম নয়।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির সভাকে জানান, দিনের বেলায়ই চুন্টা ইউনিয়নের বাজারে পশ্চিম পাশে ভাঙ্গা পরিত্যক্ত বিল্ডিং এর মাদক খাওয়ার আস্তানা । আরোও এমন অনেক আস্তানার নাম তিনি বলেছেন।এসব বন্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া কথা জানান।
এমনকি সামাজিকভাবেও কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠছে না । ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদকের ব্যাপকতা । আর এর সর্বনাশা ছোবলে ধ্বংশ হচ্ছে এলাকার কিশোর ,ছাত্র ও যুব সমাজ। এসব মাদকদ্রব্যের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভার সদস্য গণ।
এদিকে উপজেলা আইন- শৃঙ্খলা সভার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন বলেন, মাদকের সাথে কোন প্রকার আপোষ করা যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।
সরাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, মাদক যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।