
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২২, ০:১১

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিক আবু জাফর প্রদীপ (৪২) কে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামে রোববার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রদীপ রাজপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেক পাহলান’র ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সরেজমিন বার্তার স্থানীয় ফটো সাংবাদিক এবং একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়া তিনি একজন দলিল লেখকও। স্ত্রী জিনিয়া, সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়ে তাহসিনা আক্তার প্রমি এবং আলভীর নামে তার তিন বছরের শিশু পুত্র সন্তান রয়েছে।
প্রদীপের স্ত্রী জিনিয়া আক্তার বলেন, ঘটনার দিন রোববার রাতে প্রদীপ বাড়িতেই ছিলেন। রাত সাড়ে আটটার সময় তার সেজ ভাই ইলিয়াস হোসেন সোহাগ প্রদীপকে ডেকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। আমরা তখন মনে করছি, ভাই ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। রাত গভীর হওয়ার পর প্রদীপ ঘরে ফিরে না আসায় আমরা দু:শ্চিন্তায় পড়ি। সবাই মিলে তাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে পুলিশে খবর দেই। এরপর পুলিশ এসে বাড়ির নিকটের একটি পুকুর থেকে রাত দেড়টার দিকে প্রদীপের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
প্রদীপের স্ত্রী জিনিয়া আক্তার এবং শাশুড়ি পিয়ারা বেগম বলেন, প্রদীপ রাতের বেলা বাড়ি থেকে কখনই বের হতেন না। তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।


জিনিয়া আরও বলেন, প্রদীপের সেজ ভাই ইলিয়াস হোসেন সোহাগ ঢাকায় বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে এসে পৈত্রিক বাড়ির অংশ বিক্রি করার জন্য একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। প্রদীপ এতে আপত্তি করেছিল। এ নিয়ে প্রদীপের সাথে সোহাগের বিরোধ হয়। এছাড়া বাড়ির কাছে যৌথ মালিকানায় তাঁর ইট ভাটার ব্যবসা রয়েছে। ক’দিন ধরে ব্যবসা নিয়েও পার্টনারদের সাথে সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিলনা।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসিম বলেন, প্রদীপের ভাইর সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল, এটা আমরা শুনেছি। গত রাতেও ওই ভাইর সাথে তার ঝগড়া হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে ভাই পলাতক রয়েছে। ওসি আরও বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। প্রদীপের মৃতদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছি। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরী চাকু জব্দ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।