প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১:৪০
সরকারি ঘর দেওয়ার নামে অসহায় হতদরিদ্র মোরজিনা বেগমের ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ২ নং কাটলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন। এনজিও'র কিস্তি আর ধারদেনা করে এই টাকা জোগাড় করেন মোরজিনা বেগম। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
জানাগেছে, বিরামপুর উপজেলার ২নং ইউনিয়নের উত্তর কাটলা গ্রামের আবু সাইদের অসহায় স্ত্রী মোরজিনা বেগম। ঘরে তার দুই মেয়ে আর এক ছেলে। স্বামী আবু সাইদ অনেক আগে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। বহু কষ্টে ছেলে-মেয়েদের মানুষ করছেন তিনি। বড় মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে, অর্থের অভাবে বিয়ে দিতে পারছেন না মেয়েকে।
কয়েক শতক জায়গার উপর মোরজিনার একটি ছোট কুঁড়েঘর। স্বামী হারা মোরজিনা সন্তানদের নিয়ে এই কুঁড়েঘরে তার কষ্টের বসবাস। অল্প একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই তার ঘর নড়বড় করে, প্রতিনিয়ত ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাকে আতঙ্কে থাকতে হয়।
অনেক আশা করেছিলো সরকারের দেওয়া পাকা বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করবে মোরজিনা। তাই মানুষের কাছে ধারদেনা আর এনজিও'র নিকট কিস্তি নিয়ে ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট পাঠান। কিন্তু আশায় বাসা বাঁধলেও আজও তার আশা পুরন করেনি ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন। তবুও আশা আর স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি এই অসহায় গরীব মোরজিনা বেগম।
রবিবার(০৫ সেপ্টেম্বর) ২ নং কাটলা ইউনিয়ন পরিষদে দেখা যায় ভুক্তভোগী মোরজিনা বেগমকে। তিনি বলেন, হারা গরীব মানুষ, স্বামী নাই, অনেক কষ্ট করে ছোলপল মানুষ করুছু। ঘরদুয়ার নাই, চেয়ারম্যান মোক সরকারি ঘর করে দিবি। এই তঙ্কে চেয়ারম্যানের শালা শহিদুলের হাতে চায়েচিন্তে ৪০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান নাজিরের কাছে দেউ। চেয়ারম্যান মোক কইছিলো তোমার কাগজপাতি সব হয়ে গেইছে, এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ হবে। তিন বছর হলো, কিন্তু আজ পর্যন্ত চেয়ারম্যান মোর ঘরের ব্যবস্থা করে দিলো না। মোর মতো গরীব মানুষক, আর কত কষ্ট করবা নাগবে?
টাকা নিয়ে মোরজিনাকে ঘর কেন দিচ্ছেন না, এমন প্রশ্ন করলে, কাটলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, আমি তার নিকট কোন টাকা নেইনি। এগুলো মিথ্যা এবং বানোয়াট।
এবিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার জানান, আমি এবিষয়ে অবগত নই এবং কেউ আমার নিকট অভিযোগ করেনি। তবে আমার নিকট অভিযোগ করলে আমি এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।