
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২১, ২৩:৩৩

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক কিশোরী (১৪) ও তাঁর মা জেসমিন আক্তার(৩৫), পিতা অটোরিক্সা চালক জামাল হোসেন(৪৫)কে টানা হেচড়া করে ঘর থেকে ধরে এনে সড়কে ফেলে প্রকাশ্যে দিবালোকে কিল, ঘূষি, লাথি ও লাঠিপিটা করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধারপূর্বক চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সুলতানপুর ইউনিয়নের কুরছাপ পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার (২৬আগস্ট) দুপুরে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২৬আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কুরছাপ উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া ওই কিশোরীর বাবা মোঃ জামাল হোসেন বাদী হয়ে কুরছাপ গ্রামের একই পরিবারের ৮জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, মোঃ নুরুল ইসলাম’র পুত্র মোঃ কাউছার (৩৫) ও মোঃ হাসান(২৫), মৃত; আলী হোসেন’র পুত্র মোঃ নুরুল ইসলাম (৬৫), মোঃ কামাল (৫৫) ও মোঃ সফিকুর রহমান (৬০), মোঃ কাউছারের স্ত্রী মোসাঃ নারগিছ (৩০), মোঃ হাসান’র স্ত্রী মোসাঃ আনিকা (২৫), মোঃ কামাল হোসেন’র স্ত্রী মোসাঃ কুলছুম (৪০)। মামলা নং-১৯.
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামী মো. হাসানের বড় ভাই কাউছার আহম্মেদ ভিক্টিম ওই কিশোরীর মাকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে লাঠিপিটা করছে। এসময় তাকে স্থানীয় কয়েকজন থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে ওই কিশারীর মা অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অভিযুক্ত মোঃ হাসান জানান, আদালতে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার ঘটনাটি ছিল মিথ্যা সাজানো। জামাল চাচার সাথে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওরা এ মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমাদের দূর্বল করতে চেয়েছিল। মিথ্যা মামলা তুলে না নেয়ায় রাগের মাথায় চাচির উপর হামলা করেছি।

ভিক্টিমের বাবা মোঃ জামাল হোসেন জানান, মোঃ হাসান আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। আমি কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের পর থেকে তা তুলে নিতে কিছু প্রভাবশালীর সহযোগিতায় হাসানের পরিবার আমাকে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। মামলা তুলে না নেওয়ায় আমার স্ত্রীকে প্রকোশ্যে লাঠিপিঠা করে। এর আগে আমার মেয়ে ও আমাকেও এভাবে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে লাঠিপিঠা করেছে। ওই ঘটনায় রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছি।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাবা মোঃ জামাল হোসেন দেবীদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। দোষীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে। এঘটনার পূর্বে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটিরও তদন্ত চলছে।