
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৪

গত বছরের নভেম্বর থেকে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে, যেখানে কয়েকটি বড় কোম্পানির সিন্ডিকেটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে সয়াবিন তেলের বোতল বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে। খুচরা বাজারে এক লিটারের বোতল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, অথচ বড় আকারের বোতল সীমিত পরিসরে মিলছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।
খোলা সয়াবিন তেলের দাম ইতোমধ্যে লিটারে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় মিলমালিকদের সংগঠন নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে, যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৯৫ টাকা। একইভাবে পাঁচ লিটারের বোতলের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি অনুমোদনের আগেই ব্যবসায়ীরা নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে এবং তা না মানলে সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এতে বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ তেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং জরিমানাও করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সুযোগ নিয়েছে এবং নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে সরকারি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান দামই বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নতুন করে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন বৈঠকের মাধ্যমে এই সংকট কতটা সমাধান হয় এবং ভোক্তারা কতটা স্বস্তি পান।