প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।
এর আগে রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের মুঠোফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি অপ্রতিম।
অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পুলিশও তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। ওই দিনই অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, তদন্তে কিছু সূত্র পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।