প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৯

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর ছবি সংবলিত ব্যানার ব্যবহার করে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জমির মালিকদের পক্ষে জাহাঙ্গীর আকন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আকন দাবি করেন, সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেন বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়েছেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আকন বলেন, কুয়াকাটার লতাচাপলী মৌজার বিভিন্ন দাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা জমি দেখাশোনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মামলা পরিচালনার জন্য তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে জমির একটি অংশ বায়না দলিলের মাধ্যমে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোশাররফ হোসেন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা করেছেন। এসব মামলাকে তিনি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা হিসেবে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকাতেও এ সংক্রান্ত আরও দুটি মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আকন আরও দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে পুরোনো দেওয়ানি মামলা ও ডিক্রির সূত্র ধরে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিকানা দাবি করছে। তবে পরবর্তী সময়ে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে মামলা হলে আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি গড়ায় এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
জাহাঙ্গীর আকনের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাদের জমি ভোগদখলে রাখা হয়েছে। তারা জমিতে যেতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও করেন তিনি।

এ ছাড়া গত ২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গেলে মোশাররফ হোসেনের লোকজন তাকে আটক করে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছে বলেও অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আকন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব নথি ও তথ্য উপস্থাপন করেছেন, সেগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সানভিউ প্রপার্টিজের মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হলেও অংশীদারদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি মন্ত্রীর ছবি সংবলিত সাইনবোর্ড দেখিয়ে জমি বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেন জাহাঙ্গীর আকন।
এ অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন, দখলমুক্তি এবং হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার পক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।