কুমিল্লার দেবীদ্বারে আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারের লোভই হত্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সাগর বড়ুয়া। বুধবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে তিনি এ তথ্য জানান।
হত্যাকাণ্ডের পঞ্চম দিনে ঘাতক হিসেবে গ্রেপ্তার লাইলী আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় সে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, লাইলীর দেওয়া তথ্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত পাঁচ দিনে বিভিন্ন স্থান থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের প্রায় অর্ধশত খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৪টি পলিব্যাগে ভর্তি এসব অংশের মধ্যে মাথা ও পায়ের অংশসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ রয়েছে।
এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত দুটি দা, ফরিদার পরনের একটি গলার চেইন, একজোড়া কানের দুল, একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ খণ্ডিত করতে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়িও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে ফরিদার ঘরের আলমারি থেকে সাত লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ এবং ১০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার লুটের তথ্য পাওয়া গেলেও এসবের কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তার ধারণা, হত্যাকাণ্ডে সহযোগীরা ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। তাদের কাউকে আটক করা গেলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
পুলিশ জানায়, ফরিদাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাইলী মরদেহ বাথরুমে নিয়ে খণ্ডিত করে পলিব্যাগে ভরে রাখে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, সকালে নিহতের মাথার অংশ একটি ব্যাগে নিয়ে বাসার অদূরের একটি ডোবার ঝোপে ফেলে আসে লাইলী।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, লাইলী যাদের নাম বলেছে, তাদের একজন প্রবাসে এবং একজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। বাকি দুজনের মধ্যে কাউকে আটক করা গেলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, লাইলী খুবই ধুরন্ধর এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
লাইলী চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি ফরিদার বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। এর আগে ২০২১ সালে পরকীয়ার জেরে একটি শিশু হত্যার মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি এবং প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হন।
দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৭ আগস্ট রাতে হত্যাকাণ্ডের পর ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে পলিব্যাগে ভর্তি ফরিদার খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।