জামিন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে দেশের আরও ১২টি জেলায় ‘ই-বেইল বন্ড’ ব্যবস্থা চালু করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সচিবালয় থেকে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন জেলাগুলোতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
নতুন করে যেসব জেলায় ই-বেইল বন্ড চালু হচ্ছে সেগুলো হলো—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, রাঙ্গামাটি, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে বিচারিক বিলম্ব ও পদ্ধতিগত জটিলতা আরও কমবে। একই সঙ্গে আদালত, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কাজের চাপও কমবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম জানান, বিচারব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই প্রচলিত বেইল বন্ড বা জামিননামা দাখিলের পদ্ধতির পরিবর্তে ই-বেইল বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বিচারপ্রার্থী, কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও অর্থ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে দেশের ১৬টি জেলায় তিনটি ধাপে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১) মো. আজিজুল হক জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত ১৩টি ম্যানুয়াল বা কায়িক ধাপ অতিক্রম করতে হতো। নতুন ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থায় এখন মাত্র তিনটি প্রধান ধাপেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাচ্ছে। ফলে জামিন-সংক্রান্ত কার্যক্রম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত হচ্ছে।
জামিন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের বিলম্ব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে প্রথমবার ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর জেলায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তৃতীয় ধাপে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়।