প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৭

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নকে বিভক্ত করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শত শত মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণশুনানি পণ্ড করে দেন। এ সময় কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে সীমানা নির্ধারণ কমিটির উদ্যোগে ইউনিয়ন বিভাজন নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। তবে শুনানি শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষ পরিষদের সামনে জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে ইউনিয়ন বিভক্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভাগ হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে এবং প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হলেও গণশুনানি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতা স্লোগান দিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হট্টগোলের একপর্যায়ে পরিষদ ভবনের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে পরিষদের এক দফাদারসহ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। এ সময় সীমানা নির্ধারণ কমিটির কর্মকর্তা এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অবরুদ্ধ কর্মকর্তা ও নেতাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা অখণ্ড হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বজায় রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, জনমত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, গণশুনানি শুরুর আগেই কিছু লোকের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে আনে। উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ ও সাবরাং ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাসের সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা ও মতভেদ অব্যাহত রয়েছে।