প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:৯

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় দুই চোরাচালানকারীকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি নৌকাও। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোররাতে টেকনাফের সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ নাফ নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় আগে থেকেই কৌশলগত অবস্থান নেয় তাদের টহল দল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার ২ নম্বর কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্পের বাসিন্দা জুস মোহাম্মদ (৩০) এবং ৫ নম্বর আলিখালী এফডিএমএন ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াস (৩৭)। তারা দুজনই মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে আনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বিজিবি জানায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নির্দেশে একটি বিশেষ টহল দল অত্যাধুনিক ফ্যান্টম নৌযান নিয়ে নাফ নদীতে নজরদারি শুরু করে। ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন নৌকা মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে সেটিকে ধাওয়া করা হয়।
ধাওয়া খেয়ে নৌকায় থাকা চোরাচালানকারীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করে। বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে অপর একজন অন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে জব্দ করা নৌকাটি তল্লাশি করে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে বিজিবির ফ্যান্টম বোটের ধাক্কায় চোরাচালানকারীদের নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই অর্ধনিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দকৃত নৌকাসহ তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।