প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৩

নলছিটির খাল-বিল ও নদীতে অবাধ ব্যবহার, অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানাল প্রশাসন
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পরিবেশবাদী, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের দাবি, এভাবে নির্বিচারে জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গোপনে বিক্রি হচ্ছে এই নিষিদ্ধ জাল। অনেক জেলে দীর্ঘ সময় পানিতে জাল ফেলে রেখে মাছ শিকার করছেন। এতে শুধু বড় মাছ নয়, মাছের ডিম, রেণু ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, এক সময় কারেন্ট জাল দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি ছিল। এখন চায়না দুয়ারী জাল সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে। তার মতে, দীর্ঘদিন পানিতে জাল ফেলে রাখার কারণে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের বাজারগুলোতে আগের মতো দেশীয় মাছ এখন আর দেখা যায় না। অনেক প্রজাতির মাছ ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে, আর যেগুলো রয়েছে সেগুলোর সংখ্যাও দ্রুত কমছে। তিনি নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় অনেকেই এই জালের প্রতি ঝুঁকছেন। তবে এর পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকাল দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মৌসুমে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খুব শিগগিরই উপজেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজবী আহমেদ সবুজ জানান, চায়না দুয়ারী জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ এবং এর ব্যবহার বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফটো ক্যাপশন: নলছিটির মালিপুর এলাকার একটি খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন জেলেরা।