প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৩

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রাম এখন যেন নদীবেষ্টিত এক বিচ্ছিন্ন জনপদ। বিষখালী ও গজালিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ হারিয়ে গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
২০১৬ সালের ভয়াবহ নদীভাঙনের পর থেকে গ্রামটির স্থল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ধারাবাহিক ভাঙনে শত শত একর কৃষিজমি, অসংখ্য বসতবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে গ্রামটিতে মাত্র ৪৫টি পরিবার কোনোমতে বসবাস করছে।
এলাকাবাসীর জন্য নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। চিকিৎসা, শিক্ষা, বাজার কিংবা সরকারি সেবা—সবকিছুর জন্যই নদী পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে উত্তাল নদীর কারণে সেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। রাতের বৃষ্টিতে বা নদীর স্রোত বেড়ে গেলে অনেকেই ঘুমাতে পারেন না। যে সামান্য বসতভিটা অবশিষ্ট রয়েছে, সেটিও যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে—এমন শঙ্কা সবসময় তাড়া করে বেড়ায়।
যোগাযোগ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। গ্রামটির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসময় শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৪০ জনে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যাওয়ায় বিদ্যালয়টিও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীতীর সংরক্ষণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট গ্রামটিও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটিতে সরাসরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু কারিগরি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার সুযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ত্রাণ নয়; স্থায়ী নদীতীর রক্ষা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হলে তবেই এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।