প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৫

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খালগুলো পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।
সরকারের ‘সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন’ (আইপিসিপি) এবং ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরাসরি ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ি হয়ে কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এছাড়া উত্তর তারাবুনিয়া, মরিচবুনিয়া, তুলাতলি ও রাড়িবাড়ি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় সেচের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পুনঃখননের ফলে এখন খালে পানি প্রবাহ ফিরে আসায় কৃষিকাজ অনেক সহজ হবে বলে তারা আশাবাদী।
খাল পুনঃখননের ইতিবাচক প্রভাব শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়। পানি প্রবাহ সচল হওয়ায় দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে দৈনন্দিন কাজে পানির ব্যবহার সহজ হয়েছে এবং খালের দুই পাড় দিয়ে চলাচলের সুযোগ বাড়ায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত হলে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর হওয়ায় গৃহস্থালির নানা কাজও এখন অনেক সহজ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে এ জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রকল্প কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর আশা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে পুনঃখনন করা খালগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাজাপুরের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।