২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে কুয়াকাটা-ভাঙ্গা মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পায়রা বন্দরের ছয় লেন সড়ক পর্যন্ত এই কর্মসূচির আয়োজন করে নাগরিক সমাজ।
মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, মহিপুর প্রেসক্লাব, কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটা নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেয়। কয়েক হাজার মানুষ এতে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণ, কুয়াকাটাকে উপজেলায় উন্নীত করা, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।
বক্তারা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে পায়রা বন্দর, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, লাইটহাউজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও চলতি বাজেটে এ অঞ্চলের বড় প্রকল্পগুলোর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।
তারা আরও বলেন, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির স্বার্থে মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কুয়াকাটায় তিন শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সুরক্ষায় কুয়াকাটাকে উপজেলায় উন্নীত করারও দাবি জানান তারা।