পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জিনবুনিয়া খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ছলিমুল্লাহ তালুকদার এ আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, খেপুপাড়া মৌজার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ জিনবুনিয়া খালের টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী অংশ ঘিরে অন্তত সহস্রাধিক একর আবাদি জমি রয়েছে। ওই জমির উৎপাদিত ফসলের উপর নির্ভর করে পাঁচ শতাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা।
অভিযোগ রয়েছে, একটি কুচক্রী মহল সরকারি খালের শ্রেণি পরিবর্তন করে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। দখলদাররা সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি পুকুর ও নালা কেটে মাছ চাষ করছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক কৃষকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ছে এবং পানির অভাবে কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এতে কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. এমাদুল ও মো. ইসমাইল আকন জাল কাগজপত্র তৈরি করে খাল দখল করেছেন এবং বর্তমানে বালু ফেলে ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
চিংগড়িয়া এলাকার গৌতম চন্দ্র হাওলাদার ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান। একই দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন করলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আহ্বায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, সরেজমিনে কৃষকদের দুর্ভোগ স্পষ্ট। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।