মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী গ্রামে কুশিয়ারা নদীর তীররক্ষা বাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় বন্যা ও ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকসহ অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শেওয়াইজুড়ী গ্রামের নুর উদ্দিন মিয়ার বাড়িসংলগ্ন বাঁধের উপরিভাগে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আসন্ন বর্ষায় গ্রামের বিশাল অংশ কুশিয়ারা নদীতে বিলীন হতে পারে। পাশাপাশি বাজরাকোনা, পয়গাম্ভরপুর, আড়াইহাল, নটপাড়া, সুমারাই, বাউরভাগ, নাদামপুর, ঘোড়াখাল, করিমপুর, সরকারবাজারসহ আশপাশের গ্রাম এবং খলিলপুর ও আখাইলকুঁড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে একই স্থানে ভাঙন চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেয়নি। প্রতি বর্ষায় সাময়িকভাবে বালুর বস্তা বা জিও ব্যাগ ফেলে দায় শেষ করা হয়। গ্রামবাসী নিজেরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ, বালু ও গাছপালা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বর্ষার পানিতে তা টিকছে না।
শেওয়াইজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাম্দা বলেন, আগেও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এবার সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে যাবে। নাঈম মিয়া জানান, প্রতিবছরই সাময়িক সমাধান দেওয়া হয়, স্থায়ী বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিলা মিয়া বলেন, প্রায় সাত মাস আগে ভাঙনের বিষয়টি পাউবোকে জানানো হয়। সার্ভেয়ার এসে পরিমাপ করলেও এরপর কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিন মাস আগে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে।
মনুমুখ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমরান সাজু জানান, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে প্রায় চার হাজার একর জমির ফসল হুমকিতে পড়বে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, ভাঙনরোধে ব্লক বসানোর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং জিওব্যাগ ফেলার জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান জানান, বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।