
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:৩৭

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে যাত্রীদের জুতা, ভাঙা কাঁচের টুকরো, বাসের সিটের ফোম ও ব্যক্তিগত সামগ্রী।
ঘটনাটি ঘটে যখন ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই প্রাণবন্ত একটি যাত্রা রূপ নেয় মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
জানা গেছে, বাসটিতে ৪৫টি আসনের বিপরীতে ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেশি হওয়ার আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক খাঁ বলেন, এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। মানুষের আর্তচিৎকার শুনে তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন, কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে তীরে উঠার চেষ্টা করছেন।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যদি কোনো যাত্রী এখনও নিখোঁজ থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।