
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন আবুল কালাম নামের এক যাত্রী। ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম থাকায় বাস থেকে নেমে যাওয়াই তার জীবনে বাঁচার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকাকালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন অতিক্রম করে নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি ঘটেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। কেউ বুঝে ওঠার আগেই বাসটি ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে থাকা আবুল কালাম জানান, তিনি ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকার বাড্ডায় ফিরছিলেন। ফেরিঘাট থেকে বাসে ওঠার পর প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট তিনি ভেতরে ছিলেন।
তিনি বলেন, সিট না পেয়ে ইঞ্জিনের উপর বসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইঞ্জিনের তাপ বেশি থাকায় অস্বস্তি অনুভব করেন এবং বাস থেকে নেমে নিচে দাঁড়িয়ে থাকেন।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
কালাম জানান, এর কিছুক্ষণ পরই তার চোখের সামনে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি এবং হতভম্ব হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, বাসে তার একটি ব্যাগ রয়ে গিয়েছিল, যাতে শিক্ষাগত সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং নগদ অর্থ ছিল। পরে তিনি সেই ব্যাগ ফিরে পেলেও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
আবুল কালাম আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র দুই মিনিট আগে যদি বাস থেকে না নামতেন, তাহলে হয়তো তিনিও নিহতদের তালিকায় থাকতেন। এই ঘটনায় তিনি নিহত যাত্রীদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।