
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৯

বরিশালের হিজলা উপজেলায় জাটকা নিধন প্রতিরোধে বিশেষ যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে জাটকা বিক্রির দায়ে পাঁচজন মাছ বিক্রেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কাউরিয়া বাজারে ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন ২০২৬’ এবং জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও হিজলা থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম বাজার এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাজারে গোপনে জাটকা বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হয়। এসময় ১২০ কেজি জাটকা ইলিশসহ পাঁচজন বিক্রেতাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শাফিনর রহমান আকন্দ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত পাঁচ বিক্রেতাকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দণ্ডিতরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে মুক্তি পান।
যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সমীর কুমার বসাক। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন হিজলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম এবং হিজলা থানার পুলিশ সদস্যরা।

অভিযান শেষে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াস সিকদারের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাটকাগুলো উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে একদিকে আইন প্রয়োগ, অন্যদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াস সিকদার বলেন, সরকার ঘোষিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জাটকা ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ জাতীয় সম্পদ হওয়ায় এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জেলে ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ালেই জাটকা রক্ষা সম্ভব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।