হাড় কাঁপানো কনকনে শীত, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্তরা। এ শীতে কষ্টে দিনাতিপাত করছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষসহ ছিন্নমূলরা। বিশেষ করে, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গরম ও উষ্ণ শীতবস্ত্রের জন্য হা-হা-কার করে শীতার্তরা।
অসহায়, হতদরিদ্র, রাস্তায় ও ফুটপাতে,আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা-ভিক্ষুক, নদী ভাঙনের শিকার ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের ঘরে-ঘরে ছুটছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়, উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে
সম্প্রতি উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, ছোট ভাকলা, উজানচর ও পৌরসভার অসহায়, দরিদ্র এবং নদী ভাঙনকবলিত আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ঘরে-ঘরে ঘুরে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ করেছেন ইউএনও ও পিআইও।
কম্বল পেয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা বলেন, এক সপ্তাহের বেশি দিন ধরে ব্যাপক শীত পড়েছে। তাছাড়া নদী ভাঙনে বসত-ভিটা হারিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকি। অনেক বাতাস ও শীত লাগে। কেউ খোঁজ খবর নেয় না। হঠাৎ দরজার শব্দ পেয়ে দেখি কম্বল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকজন লোক। পরে দেখি ইউএনও স্যার ও পিআইও স্যার হাতে কম্বল নিয়ে দুয়ারে দাড়িয়ে আছেন।
বৃদ্ধ সোবাহান সরদার বলেন, আমরা গরিব মানুষ, টাকা পয়সাও নেই যে শীতবস্ত্র কিনে শীত নিবারণ করব। আগুনের কাছে থাকলেও শীত কমে না। এ শীতের রাতে দুই স্যারে কম্বল দিয়েছেন। শুধু আমি একা নই, আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকা শতাধিক মানুষকে তারা কম্বল দিয়েছেন। আমাদের খুব ভালো লাগছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর জানান, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন নদী ভাঙনকবলিত এলাকা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।